ধান কাটা শুরু সুনামগঞ্জের হাওড়ে।

0 7

মহামারি করোনাভাইরাসের আতঙ্ক নিয়েই সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই-শাল্লা ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জসহ প্রায় উপজেলাতেই হাইব্রিড বিআর-২৮ ধান কাটা শুরু হয়েছে। করোনাভাইরাসের আতঙ্ক থেকেও কৃষকদের বুকভরা আশা নিয়ে সোনালী ধান ঘরে তুলতে ধান কাটতে দেখা গেছে । বিস্তৃীর্ণ ফসলী মাঠ জুড়ে পাকা-অধাপাকা ধানের মৌ-মৌ গন্ধে ভরে গেছে জেলার সব হাওর।

কৃষকরা বলে জানিয়েছেন গরম হাওয়ায় আংশিক ধানে চিটা হয়েছে। করোনার আতঙ্কে লকডাউনের পূর্বেই সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, পাবনা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুরসহ উত্তারাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ধান কাটার শ্রমিকরা এসেছেন কৃষকদের বাড়িতে। তবে লকডাউনে তুলনামূলকভাবে শ্রমিক সঙ্কটে কৃষকরা কিছুটা উদ্বিগ্ন।

এ বছর সুনামগঞ্জ জেলায় ১১টি উপজেলার ছোট বড় ১৫৪ টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫ শ হেক্টর বোরো জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৪ হাজার হেক্টর বেশি। গত বারের চেয়ে এ বছর বোরো মৌসুমে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড চাষ করা হয়েছে। এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা চালে নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার মে.টন। এতে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই-শাল্লা, বিশ্বম্ভর পুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জসহ ১১টি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে-গ্রামে এখন শুরু হয়েছে আংশিক বোরো ফসল কাটা। বছরে একটি মাত্র বোরো ফসলকে ঘিরেই হাওরাঞ্চলের মানুষের সব স্বপ্ন। বহু প্রতিক্ষা ও ত্যাগের পর কৃষকদের বছর জুড়ে থাকা অভাব-অনটন আর জমাট বাঁধা দুঃখ-কষ্ট পেরিয়ে, এবার কিছুটা হলেও সোনাঝরা হাঁসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে।

করোনা আতংকের মাঝেও বহু প্রত্যাশীত সোনালী ধান ঘরে তুলতে কৃষকরা ব্যস্ত। কৃষকেরা ধান কাটতে মাঠে আর কৃষাণীরা মাড়াইকল দিয়ে ধান শুকানোর জন্য খলা প্রস্তুতের কাজ করছেন। অবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আর সপ্তাহ খানেকের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা শুরুর হবে, এসময় সবার ঘরে-ঘরে থাকবে ধান আর ধান। হাজারো স্বপ্নে বিভোর কৃষকরা এখন রাত যাপন করছেন ধান কাটার অধীর আগ্রহে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.