খোকসায় ভাতা ভোগীদের ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ায় মামলা ।

0 98
কুষ্টিয়ার খোকসা পৌরসভা চত্বরে বয়স্ক বিধবা ভাতাভোগীরা ভাতার কার্ড হালনাগাদ করতে এবং খোকসা সমাজ সেবা কার্যালয়ের সমস্ত ভাতার টাকা সরাসরি ভুক্তভোগীর নিকট পৌছানোর লক্ষ্যে শনিবার ( ২০.০২.২০২০ ইং ) ভাতা ভোগীরা ভীড় জমায় পৌরসভা চত্বরে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লম্বা লাইনে দাড়িয়ে থাকা ভাতাভোগী বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সাথে চিৎকার চেচামেচি করতে থাকেন, সমাজ সেবা অফিসে কর্মরত, ইউনিয়ন সমাজ কর্মী বিকাস কুমার সরকার, এক পর্যায়ে তিনি রাগান্বিত হয়ে লাইনে দাড়িয়ে থাকা ভুক্তভোগীদের ধাক্কা দিলে পড়ে যান ভাতাভোগী মোছা: কাজলী খাতুন (৪৫), ঘটনার বিবরনে, কাজলী খাতুন বলেন, আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম, আমি মোবাইলির কিছু বুঝিনে, তাই হাসেম ভাইকে দেখে, মনে মনে ভাবলাম জিজ্ঞেস করি, আমার এই মোবাইল দিয়ে হবিনি নাকি? এই মনে করে কেবল এক পা বাড়ায়ছি আর ঐ লোক (ইউনিয়ন সমাজ কর্মী বিকাস কুমার সরকার ) আইসে আমার ধাক্কা মারে ফেলা দিল। আমি চার মাস আগে পাইলস এর অপারেশন করিছি আমি খুব কষ্ট পাইছি।তার পেছনে দঁড়িয়ে থাকা আর একজন ভাতাভোগী মরিয়ম খাতুন (৫৫) বলেন, আমি ওর পেছনে দাঁড়া ছিলাম ওর ধাক্কা মারলি,আমিও পড়ে যায়।

একই ঘটনার শিকার পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভাতাভোগী বিধবা শুকুরন (৬০), তিনিও একই অভিযোগ করে বলেন, সে সবারই ধাক্কা মারে সরা দিচ্ছিল, আমি কলাম আমি আগে আইছি আমার ক্যা, এম্মা করতিছ, তারপর আমি টেবিলের উপড় বই দিয়ে,আইডি কার্ডের ফটো কপি দিয়ে থুইছি আর ব্যাটা (ইউনিয়ন সমাজ কর্মী বিকাস কুমার সরকার ) কইরল কি! য্যায়া বই দিয়ে ফটোকপি দিয়ে আইড়ো মাইরে ফেলা দিল, সব তো কুচিমুচি হয়া গেল।

এ সময় বৃদ্ধা শুকুরন এর সাথে থাকা তার বৌমা জেসমীন আরা (৩০ ) বলেন, ঐ কমিশনার ( ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসেম আলী ) মেলা সময় দাঁড়া থাকে থাকে দেখতাছে, দুই তিনজনের ঐ রকম ফেলা দেছে, মুরব্বি মানুষির এম্মা ফেলা না দিয়ে বুঝায়ে বলতি পারতো, তারপর ঐ কমিশনার ( ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসেম আলী ) প্রতিবাদ করছে।

তবে এমন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: সেলিম হুসাইন বলেন, সামাজ সেবা অফিসের ঐ কর্মচারী বিভিন্ন সময় ভাতাভোগীদের সাথে খারাপ ব্যবহার সহ তাদের কাছ থেকে কোন কারন ছাড়াই ২০০/৩০০ করে টাকা নিত, এমন অভিযোগ আমাদের কাছে আছে।

এ বিষয়ে ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসেম আলী, মুঠোফোনে বলেন, ঘটনা টা অনভিপ্রেত, আমার কাছে জনৈক মোতাহার মোল্লা এসে বলেন, ভাই ঐখানে তো সমাজ সেবা অফিসের একজন, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধাদের সাথে খারাপ আচরন করছে।তারপর আমি অনেকক্ষন ধরে বিষয়টা লক্ষ্য করি এবং এক পর্যায়ে তাকে বলি আপনে এমন আচরন করছেন কেন? তিনি উল্টো আমাকে প্রশ্ন করে, আপনি এখানে কি করেন, এই নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সে আমাকেও ধাক্কা মারে এবং সে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

তবে ঘটনার বিষয়ে, ইউনিয়ন সমাজ কর্মী বিকাস কুমার সরকার মুঠোফোনে বলেন, সরকার ভাতাভোগীদের মোবাইল ব্যাংকিং করে দিচ্ছে তো, এটা এ্যাপ্রুভ করতে আসছে নগদ এর কর্মচারীরা তো ওদের আমরা হেল্প করতিছি, দুই,চার পাঁচ, সাত শ’ লোক হইছে, তো আমি অনেক কষ্টমষ্ট করে সিরিয়াল করে দিছি, এ রকম করলি পরে কাজের সুবিধা হয়।

ওখানে অনেক লোক তো, কার গায়ে ধাক্কামাক্কা লেগে সিড়ির দোপে একজন আর একজনের সাথে লাগেছে, তো তখন কাউন্সিলর সাহেব বলল যে, আপনি ধাক্কা মারে ফেলে দিলেন ক্যা, আমি বললাম, আমি ধাক্কা মারি নাই, আমিও হেল্প করতি আইছি, আপনেও হেল্প করতি আইছেন, তো সেই সময় সে ( ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসেম আলী ) বলে, এই শালা তুই ধাক্কা মারলি ক্যা, কয়া চেয়ার দিয়ে আমার এটা বাড়ি মারেছে। তবে তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তা অস্বীকার করেন।

এ ঘটনায় খোকসা থানায় মামলা হয়েছে বলে জানান,  থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কামরুজ্জামান তালুকদার। মামলা নং (৯), ধারা (৩৩২) (৩৩৩) (৩৫৩) ( ৫০৬) দন্ডবিধি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.