ছয় গ্রামের ভরসা এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটি।

0 16

প্রতিদিন ছয় গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ পার হয় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নের চরবগলা খাল দিয়ে। তবে, পারাপারে তাদের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত বাঁশের সাঁকোটির অবস্থাও হয়ে পড়েছে নড়বড়ে। সাঁকোটিতে ২-৩ জন মানুষ উঠলেই দুলতে থাকে। ফলে, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই পার হতে হয় ৬ গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষকে

 

গ্রামবাসী জানান, এক সময় মৌডুবি ইউনিয়নের হাফেজকান্দা, বাইলাবুনিয়া, বলিকান্দা, খাসমহল, ভূইয়াকান্দা ও চরবগলা এই ছয় গ্রামের মানুষ চরবগলা খাল নৌকার মাধ্যমে উপজেলা শহরে যাতায়াত করত। পরে গ্রামবাসী যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে কয়েক বছর আগে সেখানে নিজেদের অর্থায়নে চরবগলা খালের ওপর বাঁশ এবং গাছ দিয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করেন। এতে, গ্রামবাসীদের তখনকার দুর্ভোগ কমলেও সাঁকোটি পুরনো ও নড়বড়ে হয়ে পড়ায় আবারও দুর্ভোগ বেড়েছে।

সেখানে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের সাঁকোটির পাটাতনে থাকা বাঁশ ও গাছের ডাল নড়বড়ে হয়ে গেছে। বাঁশ সরে কিছু স্থানে ফাঁকা হয়ে গেছে। এতে সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মানুষ পারাপারের সময় সাঁকোটি হেলতে-দুলতে থাকে। তারপরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সাঁকোটি ব্যবহার করছে।

খাসমহল গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘স্থানীয়দের চলাচলের জন্য চরবগলা খালের ওপর সরকারিভাবে একটি সেতু নির্মাণ করা দরকার। পুরনো ও জরাজীর্ণ এই সাঁকো দিয়ে এখন আর পারাপার হওয়া যায় না। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পার হয়। করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, শিক্ষার্থীদেরও ঝুঁকি নিয়ে এ সাঁকো পার হতে হয়।’

এছাড়া মৌডুবি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আসলেই সাঁকোটি জনগুরুত্বপূর্ণ। জনদুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।’

এদিকে এই ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সাঁকোটির স্থানে একটি সেতু নির্মাণের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে কাছে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।’রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। সেখানে সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

Leave A Reply

Your email address will not be published.