করোনাকালে বিষন্নতায় আত্মহত্যার চিন্তা করেছে ৫০ শতাংশ তরুণ-তরুণী।

তরুণ তরুণীদের এমন পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে সবার আগে পারিবারিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে বলে জানিয়েছেন জুয়েল এইস।

0 53

করোনা মহামারির সময়ে আমাদের তরুণ-তরুণীরা নানা ধরণের মানসিক চাপজনিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় বেশিরভাগই তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশায় ভুগছে। দীর্ঘ মেয়াদি লকডাউনে কেউ কেউ লম্বা সময় বাসায় বসে থেকে নিজেদের কাজ থেকে মনোযোগ হারাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে তাদের মানসিকতায়, এর ফলে বেশির ভাগ তরুণ-তরুণীরই মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে। যারা পড়াশুনার পাশাপাশি চাকুরী করতো তাদের তৈরি হচ্ছে নানা আর্থিক সমস্যা। এছাড়াও বেশিরভাগ তরুণ তাদের দৈনন্দিনের অনেকটা সময় কাটাচ্ছে মোবাইল ফোনে নানা গেমস খেলে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব থেকে। এই সব কিছু মিলিয়েই তাদের মাঝে তৈরি হচ্ছে নানা মানসিক বিষন্নতা।

তরুণ সমাজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের দেশে অনেক সরকারি-বেসরকারী সংস্থাই কাজ করছে। কিন্তু, সেখান থেকে উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে না। যার ফলে এক দিকে যেমন আমাদের তরুণদের মাঝে বিষন্নতা বাড়ছে, অন্যদিকে হুমকিতে পড়ছে সমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎ। কিছুদিন আগে আঁচল নামক একটি সামাজিক সংগঠন একটি জরিপ চালিয়েছিলো শুধুমাত্র করোনাকালীন সময়ে আমাদের তরুণদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানার জন্য। যেখানে মোট ২ হাজার ২৬ জন ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেছিলো।

এদের মাঝে ১৭২০ জন ছিলেন ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী। ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২৪৩ জন এবং ৩১-৩৫ বছর বয়সী ছিলেন ৬৩ জন। যার মাঝে ১২৯৩ জনই ছিলেন নারী।

ওই জরিপে দেখা যায়, ৫০ শতাংশেরও বেশি তরুণ-তরুণী মানসিক চাপে আত্মহত্যার কথা চিন্তা করেছে। এদের মধ্যে শুধুমাত্র করোনার নানা সময়েই আত্মহত্যা করার কথা ভেবেছে ২১.৩ শতাংশ।

জরিপে অংশ নেয়াদের মাঝে ১ হাজার ২৩৯ জন বলেছেন, তারা এই করোনাকালীন সময়ে চরম মাত্রায় বিষণ্নতায় ভুগছেন। এদের মাঝে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ তরুণ-তরুণীরই পরিমিত ঘুম হয় না। যা মানসিক বিষন্নতার একটি বিরাট কারণ। আমাদের তরুণদের এত বড় একটি অংশ এই সমস্যায় ভুগলেও এদের প্রায় ৯৪ শতাংশ তরুণ-তরুণী এ ব্যাপারে জানা সত্ত্বেও এরা কখনও কোনো বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়নি। অথচ সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বা চিকিৎসা নিলে এমন মানসিক পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব ছিলো। কিন্তু, আমাদের তরুণ সমাজের মাঝে এই বিষয়ে যেমন কোন সচেতনতা নেই, তেমনি নেই করনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে ধারণা। যার ফলে যত দিন যাচ্ছে তত তরুণ-তরুণীদের মাঝে মানসিক বিষন্নতার পরিমাণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে।

তরুণ তরুণীদের এমন পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে হলে সবার আগে প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা। পরিবারের সকল সদস্যদের মাঝে যদি সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকে এবং সমস্যা শেয়ার করে নেওয়ার মতো পরিবেশ থাকে তবে এই পরিস্থিতিগুলো অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব। এর পাশাপাশি আমাদের সামাজিকভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া উচিত, যাতে তরুণ তরুণীরা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতন হতে পারে।

জুয়েল এইস
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

Leave A Reply

Your email address will not be published.